Breaking News
Home / সারা দেশ / নিয়ন্ত্রণহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল,বেশী টাকা নিয়েও দিচ্ছে না শিক্ষা

নিয়ন্ত্রণহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল,বেশী টাকা নিয়েও দিচ্ছে না শিক্ষা

জুন মাস শেষ হতে চললো। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে ভর্তি প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এসব স্কুল হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অংকের টাকা।

সবার চোখের সামনে শিক্ষার নামে দীর্ঘদিন ধরে এই গলাকাটা ব্যবসা চললেও যেন দেখার কেউ নেই। দেশে সরকার অনুমোদিত কোনও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল নেই। তাই এসব স্কুল চলছে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো।

স্কুলগুলো ভর্তির সময় প্রচার করে তারা ছাত্রছাত্রীদের পড়ায় অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজের সিলেবাস অনুযায়ী। নগরীর নামি স্কুলগুলোয় গিয়ে তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্কুলগুলোতে পড়ানো হচ্ছে ভারতীয় অথবা নিজস্ব সিলেবাস। স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অংকের ভর্তি ফি ও বেতন আদায়।

দেশে বর্তমানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সংখ্যা কত তা কারোই জানা নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরেও (মাউশি) এ বিষয়ে কোন তথ্য নেই।

বেশ কয়েকবার এসব স্কুলগুলোকে তালিকাভুক্তি এবং বাছাইয়ের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে কিন্ডারগার্টেন স্কুল

এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল সর্ম্পকিত একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে তা হয়নি। রাজধানীর কয়েকটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভর্তি ফি আকাশচুম্বী।

ধানমন্ডির অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে স্ট্যান্ডার্ড ওয়ানে ভর্তি ফি, উন্নয়ন ফি ও অন্যান্য ফিসহ ভর্তি হতে লাগে প্রায় ১ লাখ টাকা। আবার আগা খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে একই ক্লাসে ভর্তি হতে লাগছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।

ম্যাপললিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্ট্যান্ডার্ড ওয়ানে ভর্তি হতে নেওয়া হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। স্কুলগুলোর প্রায় প্রত্যেকটি অক্সফোর্ডের সিলেবাস অনুসরণ করে বলে দাবি করে থাকে।

উত্তরার ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হতে লাগছে ৩০ হাজার টাকা। এ স্কুলটি অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজের সিলেবাস পড়ায় বলে প্রচার করলেও সেখানে পড়ানো হয় ভারতীয় ইংরেজী মাধ্যমের বই।

স্কলাস্টিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তি ফি ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্কুলগুলোর সিলেবাসে বাংলাদেশ উপেক্ষিত থাকে।

রাজধানীর কয়েকটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের স্ট্যার্ন্ডার্ড সিক্স-এর ভুগোল বই নিয়ে দেখা যায়, সেখানে আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার ভৌগোলিক অবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আবার ইতিহাস বইতে রয়েছে আমেরিকা মহাদেশের ইতিহাস।

কিভাবে আমেরিকা সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটেছে সেটাই পড়ানো হয়। কয়েকটি স্কুল বাংলা বই পড়ায়। বাংলা বইয়ের ৪ থেকে ৫টি গল্প-কবিতা পড়িয়েই সিলেবাস শেষ করা হয়। এছাড়া বাংলা ভাষার অন্য কোনও বই নেই।

শিশুদের ওপর অতিরিক্ত বইয়ের বোঝাও এসব স্কুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। স্ট্যান্ডার্ড ওয়ানের শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয় ১২ থেকে ১৪টি বই। মাউশি’র মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান-উর-রশিদ জানান, এ স্কুলগুলো এমপিওভুক্ত নয়।

সরকার থেকে তারা কোনও ধরনের সাহায্য নেয় না। তাই সরকারি নির্দেশাবলীও তারা মানতে চায় না। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে নিয়ন্ত্রণহীনতায় এগুলো গড়ে উঠেছে। তাই এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে সময় লাগবে।

এ বছরের শেষের দিকেই কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর লাইসেন্সের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষানীতি-২০০৯ বাস্তবায়ন কমিটি ধীরে ধীরে কওমি মাদ্রাসা এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে মূল ধারায় নিয়ে আসার লক্ষে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, `বর্তমান শিক্ষানীতিতেও ইংলিশ মিডিয়ামের কথা বলা হয়নি। তারপরও এগুলোকে বেড়ে উঠতে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

` তিনি বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভুল ইংরেজি শিক্ষা দেওয়া হয়। এখানে শিক্ষা প্রদান এবং গ্রহণের প্রক্রিয়া দুটোই ত্রুটিপূর্ণ। সরকার এখনই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, দেশের সংস্কৃতিতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

About mk tr

Check Also

লক্ষীপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি নি;হত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় সাজ্জাদুর রহমান সজিব নামে এক ছাত্রলীগ নেতা নি;হ;ত হয়েছে। ঘটনার সত্যতা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *