Breaking News
Home / Exclusive / আঃলীগ নেতা থেকে হঠাৎ বনে যান পীর,হাতিয়ে নেয় লাক্ষ লাক্ষ টাকা

আঃলীগ নেতা থেকে হঠাৎ বনে যান পীর,হাতিয়ে নেয় লাক্ষ লাক্ষ টাকা

নবম শ্রেণী থেকেই প্র’তারণা ও অ’নৈতিক কাজে হাতে খড়ি নেন গ্রে’ফতার হওয়া তথাকথিত ভ’ণ্ড পীর আব্দুল মুত্তালিব চিশতি। তার গুরু ছিলেন একজন গৃহশিক্ষক। তখন ওই শিক্ষকের হয়ে অ’নৈতিক কাজের জন্যই বিভিন্ন বয়সী ছেলেমেয়েদের সাথে প্র’তারণা শুরু করে তিনি। কিন্তু অর্থের লো’ভ বেড়ে যাওয়ায় ভারতের একজন পীরকে অনুসরণ করতে শুরু করেন।

এক সময় নিজেই বনে যান ভ’ণ্ড পীর। তার সাথে যোগ দেন সরকারদলীয় ‘আওয়ামী নির্মাণ শ্রমিক লীগ’ সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী চাকরি দেয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে হা’তিয়ে নিয়েছেন এক কোটি ২৭ লাখ টাকার ওপরে।

এছাড়াও মুরিদদের কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। বদলি, প্রমোশনসহ বিভিন্ন তদবিরেও কয়েক কোটি টাকা নিয়েছেন তিনি। গত সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ আব্দুল মুত্তালিব চিশতিকে গ্রে’ফতার করে। গতকাল রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার এমন তথ্য দেন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে।

ডিবি সূত্র জানায়, আব্দুল মুত্তালিব চিশতি ২০০৮ সালে ভারতের রাজস্থান মেদেনিপুরের লতিফ চিশতির মুরিদ হন। তিনি সিলেটের বিশ^নাথ ইলিমপুরে গাউসুল আজম দরবার শরিফে প্রতি বছর ওরসে যেতেন। লতিফ চিশতি মা’রা যাওয়ার পর তার ছেলে ইরফান চিশতি সেই দরবারের দায়িত্ব পালন করেন।

মুত্তালিব দেখেন, ভক্তরা পীরদের অনেক সম্মান করেন। চাঁদা দেন। আবার সম্মান কাজে লাগিয়ে পীররা অনেক তদবিরও করে থাকেন। সুতরাং দ্রুত টাকা রোজগার করতে হলে এই পথই বেছে নিতে হবে।

সেই চিন্তা অনুযায়ী আব্দুল মুত্তালিব চিশতি প্রথমে টঙ্গীর গোপালপুরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দরবারের নামে প্রতি বৃহস্পতিবার মিলাদ মাহফিলের আয়োজন শুরু করেন। এরপর সেখান থেকে চলে যান ভাটারার শাহাজাদপুরে। সেখানে চাকরি দেয়ার নামে তার ভক্ত ও অন্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ হা’তিয়ে নিতে থাকেন।

যদিও কাউকেই তিনি চাকরি দিতে পারেননি। এরপর রাতের আঁধারে চলে যান তুরাগের বাটুলিয়ায়। সেখানেও দরবার বানিয়ে তার ভক্ত তৈরি করেন। ডিবি সূত্র আরো জানায়, আব্দুল মুত্তালিব চিশতি ১৫-১৬ বছর বয়সে এক লজিং মাস্টারের মাধ্যমে অনৈতিক কাজ শুরু করেন। তখন তিনি নবম শ্রেণীতে পড়তেন।

এর পর থেকেই তিনি একের পর এক ছেলে বন্ধুদের সাথে সমকামিতায় লিপ্ত হন। ‘ঢাকা গে কমিউনিটি’র দু’টি ওয়েব পেজের মাধ্যমে সহ¯্রাধিক সদস্যের সাথে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে অনলাইনে অনৈক কাজ করতেন তিনি। টার্গেট করে গার্মেন্টশ্রমিক, কলকারখানার শ্রমিক ও বিভিন্ন হোটেল বয়ের সাথে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে

অর্থের মাধ্যমে তিনি দুই এক দিন পরপরই সমকামিতা করতেন। স’মকা’মিতায় লিপ্ত এই ভ’ণ্ড পীর জীবনের শুরুতেই ফাঁ’দ পেতে মানুষের সাথে প্র’তারণা করে আসছিলেন। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে চিশতি আরো জানান, আওয়ামী নির্মাণ শ্রমিক লীগে পদ পেতে প্র’ত্যেকের কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে নিয়েছেন।

ওই সংগঠনের সভাপতি ছিলেন শেখ আক্তারী নামে এক নারীনেত্রী। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মিজানুর রহমান। জিজ্ঞাসাবাদে চিশতি জানান, আক্তারী বেগমের মাধ্যমেই বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেন তিনি। বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করতেন। এরপর ওই সব দফতরে চাকরি দেয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছেন এক কোটি ২৭ লাখ টাকা। আক্তারীকেও প্র’তারণার ২৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। তবে ওই টাকার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মহানগর গুলশান বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, চিশতি একজন ভ’ণ্ড প্র’তারক। তার বিরুদ্ধে যে পরিমাণ অ’ভিযোগ রয়েছে তা তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি ‘ঢাকা গে কমিউনিটি’ দু’টি ওয়েব পেজের মাধ্যমে যে বিকৃত যৌ’নাচার চালাতেন তাও স্বীকার করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার তাকে রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হবে বলে তিনি জানান।

About mk tr

Check Also

অবশেষে খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন তার চিকিৎসকরা

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা আজ সন্ধ্যায় জরুরি এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *